কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: বুধবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০২৫ এ ০৯:১১ PM

ইতিহাস,মিশন-ভিশন ও কার্যাবলি

কন্টেন্ট: পাতা

১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের পর আমদানি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং অর্থনীতি সম্পূর্ণরূপে বিধ্বস্ত  থাকায় স্বাধীনতার পর তৎকালীন সরকার দেশের বিধ্বস্ত আমদানি-রপ্তানি ব্যবস্থা তথা বৈদেশিক বাণিজ্যের উন্নয়নে মনোযোগ দেয় যাতে কৃষি ও শিল্প খাতের যুগপৎ উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে একটি শক্তিশালী ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠা করা যায়। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৭৩ সালে আমদানি ও রপ্তানি দপ্তর পুনর্গঠন এবং পণ্য আমদানির লাইসেন্সিং ব্যবস্থা সহজীকরণ করে ত্বরিত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং জনগণের আয় ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।

 

বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের পূর্ববর্তী সময়ে দেশের আমদানি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা প্রায় অর্ধ শতাব্দীকাল ধরে বিস্তৃত ছিলো। Defense of India Rules এর অধীনে প্রদত্ত ক্ষমতা বলে ১৯৪০ সালে ব্রিটিশ ভারতের আমদানি ও রপ্তানি বাণিজ্যের উপর প্রথম নিয়ন্ত্রণের সূচনা আরোপ হয়। মূলত, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালে নৌ-পরিবহণ ব্যবস্থা মারাত্মক হুমকির সম্মুখীন হলে তদানীন্তন ব্রিটিশ সরকার ভারত প্রতিরক্ষা বিধি জারি করে। এ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার মুখ্য উদ্দেশ্য ছিল সীমিত নৌ-পরিবহনের প্রেক্ষিতে যুদ্ধ প্রচেষ্টার সাথে জড়িত এবং অতি প্রয়োজনীয় পণ্য সামগ্রীকে পরিবহণের  অগ্রাধিকার প্রদান করা। ব্রিটিশভারত ভাগের পর, নবগঠিত পাকিস্তানে (পূর্ব ও পশ্চিম) বৈদেশিক মুদ্রার মারাত্মক অভাব দেখা দিলে, উপযুক্ত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা অব্যাহত রাখা হয় এবং এর পরিধি আরও বিস্তৃত করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় আমদানি ও রপ্তানি (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ১৯৫০ জারি করা হয়।

 

আমদানি ও রপ্তানি (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ১৯৫০ এর অধীনে প্রদত্ত ক্ষমতা বলেই পণ্য আমদানি নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত সকল সরকারি নির্দেশাবলি এবং বিধি বিধান প্রণয়ন ও জারি করা হয়ে থাকে। সময়ের পরিবর্তনের সাথে সামঞ্জস্য রেখে এই সকল বিধি বিধানও প্রয়োজন বোধে পরিবর্তন ও সংশোধন করা হয়। ১৯৫০ সালের আমদানি নিয়ন্ত্রণ আইনের মৌলিক কাঠামো ঠিক রেখে প্রথম সংশোধনী আনা হয় ১৯৭৪ সালে। বর্তমানে সাধারণভাবে আমদানি সংক্রান্ত বিধি ও পদ্ধতি যথা : আমদানিকারকগণের শ্রেণি বিন্যাস ও নিবন্ধন, আমদানি খাতে প্রদেয় ফিস এবং আমদানি সংক্রান্ত বিষয়ের আবেদনের নিষ্পত্তি উপযুক্ত আইনের প্রদত্ত ক্ষমতা বলে প্রণীত ২'টি আদেশ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। এ ২'টি আদেশ হচ্ছে:

 

(ক) The Importers, Exporters and Indentors (Registration) Orders, 2023 (revised); এবং

(খ) The Review, Appeal and Revision Order, 1977.

 

উপর্যুক্ত আইনে প্রদত্ত ক্ষমতা বলে প্রণীত আমদানি বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ তফশিল, ১৯৮৮ (Import Trade Control Schedule 1988) এর মাধ্যমে ১লা জুলাই ১৯৮৮ হতে হার্মোনাইজড পদ্ধতির অধীনে পণ্যের নতুন শ্রেণি বিন্যাস প্রবর্তিত হয়। এসব সাধারণভাবে প্রযোজ্য বিধি বিধান ছাড়াও উপর্যুক্ত আইনের ক্ষমতা বলে সরকার প্রতি ৩ (তিন) বছর অন্তর আমদানি ও রপ্তানি বাণিজ্য সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট বিধি বিধান সংবলিত আমদানি নীতি আদেশ এবং রপ্তানি নীতি প্রণয়ন করে থাকেন। প্রকৃতপক্ষে এই আমদানি নীতি আদেশ এবং রপ্তানি নীতি  হলো বৈদেশিক বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণের মুখ্য হাতিয়ার। আমদানি ও রপ্তানি (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ১৯৫০ এর অধীনে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সরকার কর্তৃক প্রণীত ও আদেশ হিসাবে জারিকৃত আমদানি নীতি আদেশ ও রপ্তানি নীতি আইনগতভাবে বাস্তবায়নের দায়িত্ব আমদানি ও রপ্তানি প্রধান নিয়ন্ত্রকের দপ্তরের  উপর বর্তায়।  

 

বর্তমানে মুক্তবাজার অর্থনীতিতে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বৈদেশিক আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের ভূমিকা অতি গুরুত্বপূর্ণ। খাদ্যশস্য, কৃষি উপাদান, শিল্পের মেশিনারি, কাঁচামাল ও যন্ত্রাংশ, জ্বালানি এবং অন্যান্য নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের চাহিদার একটি বৃহৎ অংশ বিদেশ থেকে আমদানির মাধ্যমেই মেটানো হয়ে  থাকে। স্বাধীনতার অব্যবহিত পরবর্তী বছর সমূহে বার্ষিক আমদানির মধ্যে ভোগ্যপণ্য এবং তৈরি দ্রব্যাদির প্রাধান্য ছিল। সাম্প্রতিককালে এই প্রাধান্য ক্রমান্বয়ে হ্রাস পেয়েছে এবং তুলনামূলকভাবে শিল্পের কাঁচামাল, যন্ত্রপাতি এবং যন্ত্রাংশ আমদানির হার ও পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশের অর্থনীতির বর্তমান পরিস্থিতিতে, বিশেষ করে রপ্তানিমুখী শিল্প এবং আমদানি প্রতিকল্প শিল্পের ওপর প্রদত্ত অগ্রাধিকারের ফলে এরূপ আমদানির হার ও পরিমাণ যে আরও বৃদ্ধি পাবে তাতে কোনো সন্দেহ নাই। আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আমদানি নীতিমালা ও রপ্তানি আদেশ প্রণয়নের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধারায় কৌশলগত পরিবর্তন ও বিন্যাস করা হয়েছে। আমদানি ও রপ্তানি  প্রধান  নিয়ন্ত্রকের দপ্তর এই  নীতি ও আদেশ  বাস্তবায়নে নিরলস  প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

 

বর্তমান বিশ্ববাণিজ্যের প্রেক্ষাপটে আমদানি ও রপ্তানি প্রধান নিয়ন্ত্রকের দপ্তর প্রদেয় সেবাসমূহ যুগোপযোগী করার  উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। সেবা প্রাপ্তি সহজীকরণের লক্ষ্যে International Finance Corporation (IFC) এর সহযোগিতায় ২০১৯ সালে প্রধান ৪ টি সেবা অনলাইনে চালু এবং এর ধারাবাহিক সাফল্যে ২০২১ সাল থেকে দপ্তরের ৫৪ টি সেবা অনলাইনে প্রদান করা হচ্ছে। এখন বিশ্বের যে কোন প্রান্ত থেকে সেবাগ্রহিতা অনলাইনে আবেদনের মাধ্যমে খুব সহজেই নিবন্ধন সনদ, পারমিট  গ্রহণ করতে পারছে। দেশের টেকসই উন্নয়ন এবং কাঙ্ক্ষিত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি এ দপ্তরের অন্যতম অঙ্গিকার।

রূপকল্প (Vision):

বাংলাদেশের আমদানি ও রপ্তানি বাণিজ্যকে সহজীকরণ, কার্যকরী ও উন্নয়নমুখী করা। 

অভিলক্ষ্য (Mission):

বাংলাদেশে আমদানি ও রপ্তানি বাণিজ্যকে স্বচ্ছ, কার্যকর ও সমন্বিতভাবে পরিচালনা করা, যাতে পারমিট ও রেজিস্ট্রেশনসহ সকল সেবা সহজ, দ্রুততর এবং ব্যবহারবান্ধব হয় এবং এর মাধ্যমে দেশের টেকসই উন্নয়নসহ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়।

 

আমদানি ও রপ্তানি প্রধান নিয়ন্ত্রকের দপ্তরের কার্যাবলি

 আমদানি ও রপ্তানি প্রধান নিয়ন্ত্রকের দপ্তরের কার্যাবলির সংক্ষিপ্ত বর্ণনা নিম্নে প্রদত্ত হলো :

  1. The Importers, Exporters and Indentors (Registration)Orders, 2023 এর আওতায় বাণিজ্যিক ও শিল্প আমদানিকারকদের অনুকূলে আমদানি নিবন্ধন সনদপত্র (Commercial & Industrial IRC) এবং ইন্ডেন্টরগণের অনুকূলে ইন্ডেন্টিং (Indenting) সনদপত্র জারিকরণ ও নবায়ন;
  2. বৈদেশিক অর্থায়নের প্রকল্প, বিদেশি ও বহুজাতিক কোম্পানিসমূহের আমদানি ও রপ্তানি নিবন্ধন, সনদপত্র জারি এবং উক্ত প্রতিষ্ঠাণসমূহের অনুকূলে বিদেশি শেয়ারহোল্ডার কর্তৃক ইক্যুইটি শেয়ারের বিপরীতে পণ্য আমদানি জন্য পারমিট/ অনুমতিপত্র প্রদানসংক্রান্ত সব কাজ;
  3. পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুপারিশের ভিত্তিতে বাংলাদেশে অবস্থিত বিদেশি দূতাবাসসমূহে/হাইকমিশনে কর্মরত কর্মকর্তা/কর্মচারীদের অনুকূলে ব্যক্তিগত মালামালের জন্য রপ্তানি পারমিট জারিকরণ;
  4. ইম্পোর্ট ট্রেড কন্ট্রোল শিডিউল (আইটিসি) সংক্রান্ত কমিটির কাজ এবং এইচএস কোড নম্বর, পণ্যের শ্রেণি বিন্যাস অথবা বিবরণ সম্পর্কে বিরোধসহ অন্যান্য বিষয়ে শুল্ক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমদানিকারকদের উদ্ভূত সমস্যা নিষ্পত্তিকরণ;
  5. আমদানি পারমিট/রপ্তানি পারমিট/ক্লিয়ারেন্স পারমিট/ফেরতের ভিত্তিতে আমদানি পারমিট/রপ্তানি কাম আমদানি পারমিট সংক্রান্ত কাজ;
  6. আমদানি নীতি আদেশের যে কোনো পরিবর্তন, সংযোজন, সংশোধন সংক্রান্ত গণবিজ্ঞপ্তি জারিকরণ এবং আমদানি নীতি আদেশের আলোকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রদত্ত সিদ্ধান্ত সমূহ বাস্তবায়ন;
  7. আমদানি নীতি আদেশ প্রণয়ন ও প্রকাশনায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে প্রত্যক্ষ সহায়তা প্রদান ও তার বাস্তবায়ন;
  8. আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক মেলা অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে পারমিট জারিকরণ সংক্রান্ত কাজ;
  9. বিরাজমান অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে প্রচলিত আমদানি নীতি আদেশের ধারা/উপধারা সংস্কার ও পরিবর্তনসংক্রান্ত বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান;
  10. আমদানি ও রপ্তানি সংক্রান্ত সংসদের প্রশ্নোত্তর তৈরি সংক্রান্ত কাজ;
  11. আমদানি নীতি আদেশের বিধানসমূহ সম্পর্কে সৃষ্ট যে কোনো জটিল ব্যাখ্যা প্রদান; 
  12. বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে প্রাপ্ত ঋণপত্রের কপি পরীক্ষাকরণ ও তদনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ, পর্যালোচনা ও সংরক্ষণ;
  13. আমদানি ও রপ্তানি সংক্রান্ত তথ্যাদি বিশ্লেষণ এবং তদনুযায়ী অবহিতকরণ।
  14. নিবন্ধন ও নবায়ন, ফিস আদায় তদারকিকরণ এবং এতদসংক্রান্ত পরিসংখ্যান সংগ্রহ ও সংরক্ষণ এবং আমদানি ব্যয় এবং রাজস্ব আয়ের পরিসংখ্যানসংক্রান্ত কার্যক্রম ইত্যাদি।

এক্সেসিবিলিটি

স্ক্রিন রিডার ডাউনলোড করুন